Powered by Blogger.

দুর্গন্ধনাশক ও জীবানুশোধক তৈরী

দুর্গন্ধনাশক ও জীবানুশোধক তৈরী
(Deodorant & Disinfectant)


উপকরণ
ক্যালসিয়াম হাইপোক্লোরাইট (Calcium Hypochlorite)-১৫ কেজি
লাইট সোডা অ্যাশ (Light Soda Ash)-১০ কেজি
পানি (Water)-৩০ লিটার

পদ্ধতি
৩০ লিটার পানিকে প্রথমে দুটি পাত্রে রাখুন। প্রথম পাত্রের পানির সঙ্গে ক্যালসিয়াম হাইপোক্লোরাইট মেশান আর দ্বিতীয় পাত্রের পানির সঙ্গে লাইট সোডা অ্যাশ মেশান। তারপর অপর একটি পাত্রে উভয় পাত্রের মিশ্রণটি ঢালুন এবং মেশান। তারপর থিতোতে দিন। উপরকার পরিস্রুত সলিউশনটি পলিথিন বা প্লাস্টিকের পাত্রে ভরুন।

ব্যবহারের নিদের্শ
এই সলিউশন সফট ড্রিঙ্কের বোতল, চীনেমাটির বাসন-পত্রাদি ধোওয়া, জীবানুমুক্ত ও দুর্গন্ধমুক্ত করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র : কোলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘কুটীর শিল্প’ গাইড।

চীনেমাটির ও কাচের তৈরী বাসনপত্র ধোওয়ার জন্য মিশ্রণ

উদ্যোগ : চীনেমাটির ও কাচের তৈরী বাসনপত্র ধোওয়ার জন্য মিশ্রণ
(Dish & Glass Washing Compound)


উপকরণ
হাইগ্রেড সোডিয়াম সেস্কুইকাবোর্নেট (High grade Sodium Sesqui-carbonate)-৭ কেজি
ক্যালসিয়াম হাইপোক্লারাইট (Calcium Hypochlorite)-২ কেজি

পদ্ধতি
উভয় প্রকার পাউডার মিহি করে চালুনি দিয়ে ছেকেঁ নিয়ে একত্রে মেশাতে হবে। তারপর প্রয়োজনমত সিলোফেন পেপারে প্যাক করে বিক্রি করা চলবে।

ব্যবহারের নিদের্শ
৪.৪৫ লিটার জলের সঙ্গে এক বড়ো চামচের (Table Spoon) এক চামচ মিশ্রণটি মেশাতে হবে। এর দ্বারা চীনেমাটির তথা কাচের তৈরী বাসনপত্রাদি ধোওয়াও হবে এবং জীবাণুমুক্ত করাও সম্ভব হবে।

তথ্যসূত্র : কোলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘কুটীর শিল্প’ গাইড।

স্যানিটারি দ্রব্যাদি পরিষ্কারক

উদ্যোগ : স্যানিটারি দ্রব্যাদি পরিষ্কারক
(Sanitary Household Cleaner)


উপকরণ
হাইড্রেটেড সোডিয়াম সেস্কুইকাবোর্নেট (Hydrated Sodium Sesqui-carbonate)-৫১.৯%
সোডিয়াম সোপ (Sodium Soap)-১.৫%
পাইন অয়েল (Pine Oil)-৩.১%
অক্সিক্লোস্টারিন অ্যাবজরপশান বেস (Oxychlosterin Absorption Base)-১.০%
অংশত হাইড্রেটেড ট্রাইসোডিয়াম ফসফেট (Partially Hydrated Trisodium Phosphate)-৪২.৫%

পদ্ধতি
বারবার চালুনি দিয়ে ছেঁকে নিয়ে মিহি অবস্থায় সকল দ্রব্যাদি একত্রে মেশাতে হবে। সারারাত মিশ্রণটি একত্রিত অবস্থায় রাখতে হবে।

ব্যবহারের নিদের্শ
সাধারনভাবে পরিষ্কার করার জন্য ৪.৫৫ লিটার উষ্ঞ পানির সাথে ১ বড় চামচ (Table Spoon) পাউডার মেশাতে হবে। অত্যন্ত দাগযু্ক্ত স্যানিটারী দ্রব্যাদি ধোওয়ার জন্য ৪.৫৫ লিটার উষ্ঞ পানির সাথে বড় চামচের দেড় চামচ পাউডার মেশাতে হবে।

তথ্যসূত্র : কোলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘কুটীর শিল্প’ গাইড।

ওয়াশিং পাউডার

উদ্যোগ : ওয়াশিং পাউডার
(Washing Powder)


উপকরণ
অ্যানহাইড্রাস সোপ পাউডার (Anhydrous Soap Powder)-৬৭.৪৫%
সোডিয়াম ক্লোরাইড (Sodium Chloride)-১.১%
টেট্রা সোডিয়াম পাইরোফসফেট (Tetra Sodium Pyrophosphate)-৭.৪%
সোডিয়াম মেটাসিলিকেট (Sodium Metasilicate)-১৭.৫%
ফ্লুরোসেন্ট ডাই-অপটিকাল ব্লীচ (Fluorescent dye-optical bleach)-০.০০২%

পদ্ধতি
উপরোক্ত দ্রব্যাদি উত্তমরূপে একত্রে মেশাতে হবে।

ব্যবহারের নিদের্শ
এটি একটি ভালো ডিটারজেন্ট পাউডার। বেশি না কেচেও এতে খুব ভালোভাবে কাপড়-জামা পরিষ্কার করা যায়। কাচার জন্য পরিশ্রম করতে হয় না।

তথ্যসূত্র : কোলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘কুটীর শিল্প’ গাইড।

ডিটারজেন্ট পাউডার তৈরি

উদ্যোগ : ডিটারজেন্ট পাউডার তৈরি
(Detergent Powder)

উপকরণ
সোডিয়াম ট্রিপলিফসফেট (Sodium Triployphosphate)-৩৪.০%
টেট্রা সোডিয়াম পায়রোফসফেট (Tetra Sodium Pyrophosphate)-৬.৬০%
ডিসোডিয়াম হাইড্রোজেন ফসফেট (Disodium Hydrogen Phosphate)-৯.৪০%
সোডিয়াম সালফেট (Sodium Sulphate)-১৩.৯৫%
সোডিয়াম কাবোর্নেট (Sodium Carbonate)-১.৫০%
সোডিয়াম সিলিকেট (Sodium Silicate 1:3,25 ratio)-৩.৯৮%
সোডিয়াম কাবর্ক্সমিথল সেলুলোজ (Sodium Carboxmethyl Cellulose)-০.৫৫%
সোডিয়াম এল্কিল এরিল সালফোনেট (Sodium Alkyl Aryl Sulphonate)-১৮.৭৫%
ফেটি-অ্যামাইড কন্ডেন্সেট (Fatty-amide Condensate)-২.৪৫%
ফ্লুরোসেন্ট ডাই-অপটিকাল ব্লীচ (Fluorescent dye-optical bleach)-০.০০৫%

পদ্ধতি
সূক্ষ্ম চালুনি দিয়ে ছেকেঁ নিয়ে উপরোক্ত দ্রব্যাদি ভালোভাবে মিশ্রিত করতে হবে। বেশি পরিমাণে ডিটারজেন্ট পাউডার তৈরি করতে হলে মিক্সিং (Mixing Machine) এবং শিফটিং মেশিন (Shifting Machine) ব্যবহার করা কর্তব্য।


ডিটারজেন্ট পাউডার তৈরি – দ্বিতীয় প্রণালী
(Detergent Powder – Second Method)

[এই ডিটারজেন্ট পাউডারের সাথে Water Softener বা সাবান মেশাবার প্রয়োজন হয় না]

উপকরণ
সালফেটেড কোকোনাট অয়েল মনোগ্লিসারাইড (Sulphated Coconut Oil Monoglyceride)-৩১.৫%
অ্যানহাইড্রাস সোডিয়াম সালফেট (Anhydrous Sodium Sulphate)-৬৫.৯%
সোডিয়াম ক্লোরাইড (Sodium Chloride)-১.৪৫%
ফ্লুরোসেন্ট ডাই-অপটিকাল ব্লীচ (Fluorescent dye-optical bleach)-০.০০২%

পদ্ধতি
উত্তমরূপে ছেকেঁ নিয়ে উপরোক্ত দ্রব্যাদি একত্রে মেশাতে হবে। বেশি পরিমানে এ ধরনের ডিটারজেন্ট পাউডার তৈরি করতে হলে শিফটিং মেশিন (Shifting Machine) ব্যবহার করা কর্তব্য।

ব্যবহারের নিদের্শ
আগে বস্ত্রাদির বিশেষ দাগযুক্ত অংশ তুলে নিন। তারপর গরম পানিতে ডিটারজেন্ট পাউডার মিশ্রিত করুন। পশমী বস্ত্র বা পোশাক এবং মূল্যবান সূতী বস্ত্রাদি ধোওয়ার জন্য গরম পানি ব্যবহার করা সঙ্গত। লিনোলিয়াম, কাঠের খোদাই করা কারুকায এবং চিত্রিত দেয়াল পরিষ্কার করার জন্যও এই ডিটারজেন্ট পাউডারটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র : কোলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘কুটীর শিল্প’ গাইড।

উদ্যোগ : মরিচা তোলার রং

উদ্যোগ : মরিচা তোলার রং
(Rust Remover Paint)

[বস্ত্রাদি, কম্বল, মাবের্ল বা পোর্সিলিন থেকে মরিচার দাগ, কালির দাগ, ফলের দাগ বা অন্যবিধ দাগ তোলার জন্য।]

উপকরণ
পটাসিয়াম অক্সালেট (Potassium Oxalate) : ৫ কেজি
মেথোসেল (Methocel) : ৫ কেজি
পানি (Water) : ৪০ লিটার


পদ্ধতি
উপকরনগুলো একটি ড্রামে ২৪ ঘন্টা রেখে মাঝে মাঝে নাড়ুন, জেলীর মতো হয়ে এলে কোলাপসিবল টিউবে (Collapsible Tube) প্যাক করুন।

ব্যবহারের নিদের্শ
মরচে বা অন্যবিদ ভাবে দাগ লেগেছে-এরূপ জায়গাটা প্রথমে গরম পানিতে ভিজিয়ে নিন, তারপর রাস্ট রিমুভার পেইন্টটি আস্তে আস্তে ঘষে লাগান। পনেরো মিনিট কাল ঐ অবস্থায় রাখুন, তারপর পরিষ্কার পানিতে ঘষে ঘষে ধুয়ে ফেলুন।

তথ্যসূত্র : কোলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘কুটীর শিল্প’ গাইড।

জিনসেং

জিনসেং


জিনসেং মানব দেহ আকৃতির এক ধরনের গাছ। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ হার্বস জিনসেং এর বৈজ্ঞানিক নাম Panax ginseng Mey. প্যানেক্স (গ্রীক শব্দ প্যানেক্স থেকে উৎপত্তি) এর অর্থ সর্বরোগ বিনাশক।


চীনের বেইজিং থেকে ১০০০ মাইল উত্তরে জিনসেং প্রদেশের জিনসেং (বরফ আচ্ছাদিত) পাহাড়ে জিনসেং প্রথম পাওয়া গিয়েছিল। জিনসেং সর্বরোগ বিনাশ করে। বিশেষ করে যে কোন বয়সের দুর্বল রোগী/মানুষকে সবল করতে সক্ষম। যৌবন ধরে রাখার আশ্চর্যজনক ভেষজ জিনসেং। শরীরের কর্মক্ষমতা ও উদ্দীপনা বৃদ্ধি করে বার্ধক্য প্রতিরোধ করে।

ঔষধি উদ্ভিদভিত্তিক রোগে ব্যবহার

ঔষধি উদ্ভিদভিত্তিক রোগে ব্যবহার


অশোক - Saraca asoca (Roxb.) de Wilde
ব্যবহার্য অংশ - ছাল, বীজ, পাতা
কার্যকারিতা : আমাশয়, পাইলস, সিফিলিস, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ঋতুস্রাব ও শ্বেত প্রদরে কার্যকরী।


অনন্তমূল - Hemidesmus indicus (L.) R. Br.
ব্যবহার্য অংশ - মূল পাতাসহ গাছের সমস্ত অংশ
কার্যকারিতা : রক্ত পরিষ্কারক, মূত্রকারক, শরীরের জ্বালাপোড়া নিরাময়ে কার্যকরী।


অর্জুন - Terminalia arjuna (Roxb. ex Dc) Wight & Arn.
ব্যবহার্য অংশ - ছাল। তবে এক্ষেত্রে বিশেষ পাতা ও ফল
কার্যকারিতা : বাকল উচ্চ রক্তচাপে কার্যকরী ও হৃদপিন্ডের শক্তিবর্ধক।

প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে এজিং কোড ভেঙ্গে বার্ধক্য (পজ) প্রতিরোধের উপায়

প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে এজিং কোড ভেঙ্গে বার্ধক্য (পজ) প্রতিরোধের উপায়


পজের নাম : কার্ডিওপজ
শারীরিক প্রতিক্রিয়া : হৃদপিন্ডের স্পন্দন হার কমে যায়

পজের বিরুদ্ধে কার্যকর উপাদান :
ভিটামিন-এ : উৎস- সবুজ শাক-সবজি, পাকা আম, পাকা কলা, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, আনারস, মিষ্টি আলু, যকৃত, পনির, মাখন, ডিম, দুধ।
ভিটামিন-সি : উৎস- আমলকী, কমলা, লেবু, টমেটো, ব্রকলি।
ভিটামিন-বি৩ : উৎস- লিভার, চর্বিহীন, মাংস, শস্য, বাদাম, মাছ, ডিম, সূর্যমুখীর বীজ ও তেল।
ভিটামিন-বি৩ : উৎস- কলা, গম, বাধাকপি, শিমবীজ, ডিম, দুধ, মাছ, যকৃত, ভাতের মাড়।
ম্যাগনেশিয়াম : উৎস- সয়াবিন বীজ, সবুজ শাক-সবজি, শস্য জাতীয় খাবার, বাদাম, চিংড়ী মাছ।
জিংক : উৎস- ডাল, যব, ভুট্টা, শিম বীজ, বাদাম, আদা, সবুজ শাক-সবজী, দুধ, ডিম, মাংস, মিষ্টি কুমড়ার বীজ ও ভাতের মাড়।
সেলেনিয়াম : উৎস- অঙ্কুরিত গম, গমের ভূষি, গমের রুটি, পিয়াজ, রসুন, টমেটো, ব্রকলি, টুনা মাছ ও ভাতের মাড়।
পটাশিয়াম : উৎস- কলা, সবুজ শাক-সবজী, ফলের জুস, বাদাম, কচি ডাব, ডুমুর, আলুর খোসা ও ভাতের মাড়।
টরিন : উৎস- এটা প্রধানত দেহে (পিত্ত) তৈরী হয়। এছাড়া মাছ, মাংস ও ডিমেও পাওয়া যায়।
ক্রোমিয়াম : উৎস- মাশরুম, চিটাগুড়, যকৃত, মাংস, পনির, ডিমের কুসুম ও শস্য জাতীয় খাবার।
মলিবডেনাম : উৎস- অঙ্কুরিত গম, শিম, ডাল, শস্য, ডিম ও যকৃত।

ঔষধি উদ্ভিদভিত্তিক রোগে ব্যবহার

ঔষধি উদ্ভিদভিত্তিক রোগে ব্যবহার


অশোক - Saraca asoca (Roxb.) de Wilde
ব্যবহার্য অংশ - ছাল, বীজ, পাতা
কার্যকারিতা : আমাশয়, পাইলস, সিফিলিস, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ঋতুস্রাব ও শ্বেত প্রদরে কার্যকরী।


অনন্তমূল - Hemidesmus indicus (L.) R. Br.
ব্যবহার্য অংশ - মূল পাতাসহ গাছের সমস্ত অংশ
কার্যকারিতা : রক্ত পরিষ্কারক, মূত্রকারক, শরীরের জ্বালাপোড়া নিরাময়ে কার্যকরী।


অর্জুন - Terminalia arjuna (Roxb. ex Dc) Wight & Arn.
ব্যবহার্য অংশ - ছাল। তবে এক্ষেত্রে বিশেষ পাতা ও ফল
কার্যকারিতা : বাকল উচ্চ রক্তচাপে কার্যকরী ও হৃদপিন্ডের শক্তিবর্ধক।

ফরমালিন থেকে বাঁচার উপায়

ফর্মালিন (-CHO-)n হল ফর্মালডিহাইডের (CH2O) পলিমার। ফর্মালডিহাইড দেখতে সাদা পাউডারের মত। পানিতে সহজেই দ্রবনীয়। শতকরা ৩০-৪০ ভাগ ফর্মালিনের জলীয় দ্রবনকে ফর্মালিন হিসাবে ধরা হয়। ফর্মালিন সাধারনত টেক্সটাইল, প্লাষ্টিক, পেপার, রং, কনস্ট্রাকশন ও মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। ফরমালিনে ফরমালডিহাইড ছাড়াও মিথানল থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। লিভার বা যকৃতে মিথানল এনজাইমের উপস্থিতিতে প্রথমে ফরমালডিহাইড এবং পরে ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়। দুটোই শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
ফরমালিনের ক্ষতিকর দিক:
  • ফরমালডিহাইড চোখের রেটিনাকে আক্রান্ত করে রেটিনার কোষ ধ্বংস করে। ফলে মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
  • তাৎক্ষণিকভাবে ফরমালিন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, কারবাইডসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে পেটের পীড়া, হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বদহজম, ডায়রিয়া, আলসার, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ হয়ে থাকে।
  • ধীরে ধীরে এসব রাসায়নিক পদার্থ লিভার, কিডনি, হার্ট, ব্রেন সব কিছুুকে ধ্বংস করে দেয়। লিভার ও কিডনি অকেজো হয়ে যায়। হার্টকে দুর্বল করে দেয়। স্মৃতিশক্তি কমে যায়।
  • ফরমালিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করার ফলে পাকস্থলী, ফুসফুস ও শ্বাসনালিতে ক্যান্সার হতে পারে। অস্থিমজ্জা আক্রান্ত হওয়ার ফলে রক্তশূন্যতাসহ অন্যান্য রক্তের রোগ, এমনকি ব্লাড ক্যান্সারও হতে পারে। এতে মৃত্যু অনিবার্য।
  • মানবদেহে ফরমালিন ফরমালডিহাইড ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়ে রক্তের এসিডিটি বাড়ায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে।
  • ফরমালিন ও অন্যান্য কেমিক্যাল সামগ্রী সব বয়সী মানুষের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে। ফরমালিনযুক্ত দুধ, মাছ, ফলমূল এবং বিষাক্ত খাবার খেয়ে দিন দিন শিশুদের শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। কিডনি, লিভার ও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নষ্ট, বিকলাঙ্গতা, এমনকি মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে শিশু-কিশোররা। শিশুদের বুদ্ধিমত্তা দিন দিন কমছে।
  • গর্ভবতী মেয়েদের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা, বাচ্চার জন্মগত দোষত্রুটি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে, প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হতে পারে।
  • এ ধরনের খাদ্য খেয়ে অনেকে আগের তুলনায় এখন কিডনি, লিভারের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগের সমস্যায় ভুগছেন। দেখা যাচ্ছে, কয়েক দিন পরপর একই রোগী ডায়রিয়ায় ভুগছেন, পেটের পীড়া ভালো হচ্ছে না, চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিনের উপস্তিতি নানা পরীক্ষার মাধ্যমে করা যায় যেমন-
  1. ফরমালডিহাইডের দ্রবণের সঙ্গে ২ সিসি ফিনাইল হাইড্রোজাইন হাইড্রোকোরাইড (১%) এবং ১ সিসি ৫% পটাসিয়াম ফেরিসায়ানাড দিয়ে তারপর ৫ সিসি ঘনীভূত হাইড্রোকোরিক অ্যাসিড মেশালে পুরো দ্রবণ গাঢ় গোলাপী রঙ হয়ে থাকে। একে বলা হয় সেরিভারস্ টেস্ট।
  2. ফরমালডিহাইডের হালকা দ্রবণ যেমন মাছে ফরমালিন দেয়া আছে তা ধুয়ে তার পানিতে ১ সিসি সোডিয়াম নাইট্রোপ্রোসাইড মেশালে গাঢ় সবুজ নীল রঙ ধারণ করে। এতে ফরমালডিহাইড তথা ফরমালিনের অস্তিত্ব প্রমাণ করে।
এ সমস্ত কেমিক্যাল এবং রি-এজেন্ট পাওয়া খুব কঠিন এবং দামও অনেক বেশী। তাই সহজ এবং সাধারণ একটি পদ্ধতি বের করা যায়। যেমন সন্দেহযুক্ত ফরমালিন মাছ ধুয়ে পানিতে ৩% (ভলিউম) হাইড্রোজেন পারক্সাইড মেশালে ফরমালডিহাইড অক্সিডাইজড হয়ে ফরমিক অ্যাসিডে রূপান্তর হয়। ফরমিক এসিড প্রমাণের জন্য সে পানিতে অল্প মারকিউরিক কোরাইড মেশালে সাদা রঙের তলানি পড়বে। তাতেই প্রমাণ হবে ফরমিক অ্যাসিড তথা ফরমালডিহাইড তথা ফরমালিন।
এখন কথা হচ্ছে খাদ্যদ্রব্যে ফরমালনিরে উপস্তিতি পরীক্ষার উপকরণগুলো সহজলভ্য নয় । আর সবচেয়ে বড় কথা, কেনার সময় যদি সাথে করে এসব নিয়ে যেতে হয় তাহলে হয়তো কেনাটাই ছেড়ে দিতে হবে।
কিভাবে মাছ থেকে ফর্মালিনের দূর করবেন-

  1. ফরমালিনবিহীন মাছের ফুলকা উজ্জ্বল লাল র্বণ , চোখ ও আঁইশ উজ্জ্বল হয়,শরীরে আঁশটে গন্ধ পাওয়া যায়,মাছের দেহ নরম হয় । অন্যদিকে ফরমালিনযুক্ত মাছের ফুলকা ধূসর, চোখ ঘোলাটে ও ফরমালনিরে গন্ধ পাওয়া যায় হয়,আঁইশ তুলনামূলক ধূসর র্বণরে হয় ,শরীরে আঁশটে গন্ধ কম পাওয়া যায়, দেহ তুলনামূলক শক্ত হয় ।
  2. পরীক্ষায় দেখা গেছে পানিতে প্রায় ১ ঘন্টা মাছ ভিজিয়ে রাখলে ফর্মালিনের মাত্রা শতকরা ৬১ ভাগ কমে যায়।
  3. লবনাক্ত পানিতে ফর্মালিন দেওয়া মাছ ১ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ফর্মালিনের মাত্রা কমে যায়।
  4. প্রথমে চাল ধোয়া পানিতে ও পরে সাধারন পানিতে ফর্মালিন যুক্ত মাছ ধুলে শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ ফর্মালিন দূর হয়।
  5. সবচাইতে ভাল পদ্ধতি হল ভিনেগার ও পানির মিশ্রনে (পানিতে ১০ % আয়তন অনুযায়ী) ১৫ মিনিট মাছ ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ ফর্মালিনই দূর হয়।
কিভাবে ফল ও সবজি থেকে ফর্মালিনের দূর করবেন-
  1. যে ধরনের রাসায়নিক দেয়া হোক না কেন যদি একটু আমরা একটু সচেতন হই তাহলে ফল খাওয়া সম্ভব। আমাদের যা করতে হবে তা হল- খাওয়ার আগে এক ঘণ্টা বা তার চেয়ে একটু বেশী সময় ফলগুলো পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে।
  2. লিচু কাঁচা অবস্থায় সবুজ। পাকার পর হয় ইটা লাল। এখন গাছে রাসায়নিক স্প্রে করে যার ফলে লিচু গাঁড় মেজেনটা রং ধারন করে তা বড়ই মনমুগ্ধকর। কিন্তু  চকচক করলে সোনা হয় না সেটা মনে রেখে কখনোই গাঁড় মেজেনটা রঙ্গের লিচু কেনা যাবে না।
  3. সবজি রান্না করার আগে গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন।
  4. বেগুনে এক ধরনের রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করা হয় । এই রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার ক্ষতিকর না যদি নিয়মানুসারে দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশের কৃষকেরা এ ব্যাপারে অজ্ঞ। তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। প্রতিটি কীটনাশকের ক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত থাকে।
    যেমন- একটি কীটনাশকের সেলফ লাইফ বা জীবন সীমা ৭দিন, তার মানে কীটনাশকটা ব্যবহারের ৭দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে, যা কীটপতঙ্গের জন্য ক্ষতিকর। তাই কৃষকদের উচিত কীটনাশক ব্যবহারের অন্তত ৭দিন পর ফলন তোলা। কিন্তু তারা তা না করে ২-১ দিনের মাঝেই ফলন তোলেন। ফলে কীটনাশকের ক্রিয়া ক্ষমতা  থেকে যায়, যার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে আমাদের উপর। তাই বাজারে সতেজ, উজ্জ্বল বেগুন না কিনে কিছুটা অনুজ্জ্বল,  পোকায় কিছুটা আক্রান্ত এমন বেগুন কেনাই ভালো।

গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি ?

“আসসালামু আলাইকুম”
আবারো হাজির হলাম আপনাদের সামনে…আমার নবম পোস্ট নিয়ে…
আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন ?
চলুন এখন মূল পোস্টে যাওয়া যাক…
আজ আমি খুব কমন একটা রোগ “গ্যাস্ট্রিক” থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় আপনাদের সাথে শেয়ার করবো…
গ্যাস্ট্রিক আমাদের দেশের একটা কমন রোগ। আসলে এটা কোন রোগ না। এটা সাধারণত কিছু বদভ্যাসের কারণে হয়ে থাকে। অন্য যেকোন রোগের চেয়েও এটা মাঝে মাঝে খারাপ আকার ধারণ করতে পারে। কিছু নিয়ম কানুন মেনে চললে সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একদিনে হয়তো পুরোপুরি নিরাময় হবেনা। কিন্তু ক্রমাগত অভ্যাস করে গেলে আপনি একদিন পুরোপুরি অ্যাসিডিটি মুক্ত থাকবেন ইনশাল্লাহ
আসুন দেখে নেই নিয়মগুলো কি কি
১। আজ যে সময় খাবার খেলেন কালও ঠিক সেই সময়েই খাওয়ার অভ্যাস করুন। এভাবে প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে দিনের ৩ বেলার খাবার গ্রহণ করুন।
২। তৈলাক্ত খাবার যথাসম্ভব বর্জন করুন। যদি তা নাও পারেন সমস্যা নেই। তবে তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার আগে বা পরে পানি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। তৈলাক্ত খাবার খাবার অন্তত ৩০ মিনিট পরে এক গ্লাস পানি খান।
৩। মাংস, ডিম, বিরিয়ানী, মোঘলাই, চাইনিজ খাবার যাই খান না কেন; সেটা দুপুরের মেনুতে অন্তর্ভুক্ত করুন। রাতের খাবারটি যেন হয় হালকা টাইপের। শাক-সবজি,ছোট মাছ এসব দিয়ে রাতের মেনু সাজান।
৪। যদি সাইনাসের সমস্যা না থাকে তবে অবশ্যই ঠান্ডা পানি খান। খুব বেশী ঠান্ডা পানি যেন না হয়। তবে গরম পানি না খাওয়াটাই মঙ্গলজনক।
৫। ভাত খাওয়ার আগে এক বা দু গ্লাস পানি খেয়ে নিন। তারপরে ভাত খান। খাওয়ার পরপরই অনেক বেশী পানি খাওয়ার প্রবণতা আমাদের মাঝে বেশী করে দেখা যায়। এটা বর্জন করুন। ভাত খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পরে পানি খান।
৬। প্রতিদিন খাবারের মেনুতে অন্তত একটি হলেও যেন ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার থাকে তা নিশ্চিত করুন। সেটা ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করবে। এতে গ্যাস তৈরী হবেনা। যেমন- শাক-সবজি, কলা, ঢেড়শ ইত্যাদি
৭। সরাসরি গ্লুকোজ অর্থাৎ চিনি যথাসম্ভব কম খান। তাও যদি খেতে হয় চেষ্টা করুন গুড় দিয়ে চিনির অভাবটা পুরণ করতে।
৮। বাজারে পাওয়া যায় দেশে তৈরী সমস্ত জুস যথাসম্ভব বর্জন করুন।
৯। দেশে তৈরী আইসক্রীম অনেকে রাতে খাওয়ার পরে খেতে পছন্দ করেন। এটা বাদ দেয়াটাই মঙ্গল।
১০। দিনে কিংবা রাতে- খাওয়ার পরপরই অনেকে শুয়ে পড়তে পছন্দ করেন। এটা বর্জন করুন। কিছুক্ষণ আস্তে আস্তে হাঁটাচলা করতে পারেন অথবা বসে থাকতে পারেন সোজা হয়ে। অন্তত ৩০ মিনিট পর শুতে যান।
নিয়মগুলো মানার চেষ্টা করুন। আশা করি কিছুদিনের মধ্যেই আপনার অ্যাসিডিটির সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
পোস্টটি সর্বপ্রথম প্রকাশ হয়েছে নিচের এই ফেসবুক পেজটিতে…চাইলে লাইক করতে পারেন… icon smile গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি ? কিছু পরামর্শ, শুধুই আপনার জন্য..
আপনি জানেন কী ? (General Knowledge)
আজকের মতো এই পর্যন্তই…
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ্য থাকবেন এবং আমার জন্য দোয়া করবেন; যেন আপনাদের সামনে আবারো নতুন কিছু নিয়ে হাজির হতে পারি…
“আল্লাহ হাফেজ”